অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নিয়মাবলী

অ্যাসাইনমেন্ট লেখার সঠিক নিয়মাবলী জেনে নিন!

অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নিয়মাবলী – ছাত্রজীবনে বা কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আমাদের অনেক ধরণের অ্যাসাইনমেন্ট তৈরির প্রয়োজন হয়। অনেকে অনেকভাবে লিখলেও সঠিকভাবে অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নিয়মাবলী অনেকেই জানতে চান। আজ আমরা এখানে একটি আদর্শ অ্যাসাইনমেন্ট লেখার সঠিক নিয়ম বা ফরমেট সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। 

অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নিয়মাবলী

একটি ভালমানের অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব বা রুচির প্রকাশও ঘটে। তাই এটিকে অবশ্যই সুন্দর করার চেষ্টা করা দরকার। নীচে অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নিয়মাবলী সম্পর্কে ধাঁপে ধাঁপে বর্ণণা করা হলো।

কাভার পেজ

একটি অন্যাইনমেন্টের কাভার পেজ পুরোটা মূল্যায়ন করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কাভার পেজ দেখেই ব্যক্তি সম্পর্কে একটি ধরণা চলে আসে। এটি সুন্দর এবং সিম্পল হলে ভালো হয়। কাভার পেজে অ্যাসাইনমেন্টের টপিক সুন্দর করে লিখুন এবং এর সাথে সাধারণ যে ইনফরমেশনগুলো যেমন, প্রতিষ্ঠানের নাম, ডিপার্টমেন্ট সেই সঙ্গে আপনার নাম, পদবী, ফোন, ই-মেইল ইত্যাদি লিখতে পারেন। তবে বর্তমান সময়ে স্কুল-কলেজের অ্যাসাইনমেন্টের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফরমেট থাকলে সুন্দরভাবে সেটি পূরণ করুন।

এক্সিকিউটিভ সামারি

কাভার পেজের পরেই সাধারণত এক্সিকিউটিভ সামারি পেজ থাকে। এখানে আপনি যে বিষয়ে অ্যাসাইনমেন্ট লিখছেন তার সম্পর্কে একটি সামারি লিখবেন। সঠিক নিয়মে অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নিয়মাবলীর মধ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও স্কুল-কলেজের অ্যাসাইনমেন্টে এই অংশটা জরুরী নয়। স্কুল বা কলেজের অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে আপনাকে এই অংশটি লিখতে হবে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সকল তথ্য!

টেবিল অফ কনটেন্ট (সূচীপত্র)

এই পেজে আপনি আপনার অ্যাইনমেন্টের যে বিষয়গুলো বা যে পয়েন্টগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন সেই পয়েন্টগুলো টেবিল আকারে উল্লেখ করুন। এটা অনেকটা সূচীপত্রের মতো। অর্থাৎ টেবিল অফ কনটেন্ট থেকে জানা যাবে আপনি কোন নির্দিষ্ট পয়েন্ট বা হেডিং কত নম্বর পেজে বা কোনটির পরে লিখেছেন। 

যদি অ্যাসাইনমেন্টটি কলেজ বা স্কুলের জন্য হয়, তাহলে কোন কোন প্রশ্নের উত্তর লিখেছেন বা কোন প্রশ্নের উত্তরটি কত নম্বর পেজে লিখেছেন সেটি এই টেবিল অফ কনটেন্টে উল্লেখ করুন। 

মূল অংশ (কনটেন্ট)

এটি আপনার অ্যাসাইনমেন্টের মূল অংশ। আপনি যে বিষয়ে অ্যাসাইনমেন্টে লিখছেন প্রথমে তার একটি ভূমিকা লিখুন। তারপর পয়েন্ট বাই পয়েন্ট মূল আলোচনায় চলে আসুন। যদি এটি হাতে লিখে করেন তাহলে সময় নিয়ে হাতের লেখা সুন্দর করে পুরা বিষয়টি লিখুন। যদি কম্পিউটারে করেন তাহলে লক্ষ্য রাখুন যেন কোন গ্রামার বা স্পেলিংগুলো যেন ঠিক থাকে।

একটি অ্যাসাইনমেন্টকে সুন্দর, দৃষ্টিনন্দন করতে বিভিন্ন ধরণের রিলেটেড গ্রাফ বা চার্ট সংযুক্ত করুন। বিভিন্ন তথ্যগুলোর তুলনামূলক চিত্র গ্রাফের মাধ্যমে উপস্থাপন করুন। এর মাধ্যমে আপনার তৈরি অ্যাসাইনমেন্টটি অন্যদের থেকে আলাদা এবং আকর্ষণীয় হবে।

স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য মূল অংশকে অবহেলা না করে সময় নিয়ে সুন্দরভাবে লিখতে হবে। কারন এটার উপরেই বর্তমান সময়ে ফলাফল নির্ভর করে। হাতের লেখায় কোন কাটাকাটি যেন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং একটি প্রশ্নের উত্তরকে যেন বিস্তারিত আকারে লেখা যায় সেই চেষ্টা করতে হবে। 

উপসংহার

সঠিকভাবে অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নিয়মাবলীর মধ্যে এটি একটি জরুরী অংশ, আপনাকে অবশ্যই উপসংহার লিখতে হবে। উপসংহার ছোট এবং আপনার আলোচিত বিষয়গুলোর উপরে একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য এখানে লিখতে হবে। এটি অল্প কথায় সুন্দরভাবে গুছিয়ে লিখবেন।

>> পৃথিবী সৃষ্টির আগে কি ছিল জানেন কী?

রেফারেন্স

অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে আপনি যে সমস্ত জায়গা থেকে তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছেন তার একটি লিস্ট রেফারেন্স অংশে উল্লেখ করুন। এটিও অ্যাসাইনমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনার প্রদত্ব তথ্যগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা বা গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের জন্য রেফারেন্স প্রয়োজন। তাই চেষ্টা করুন যতগুলো জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন লেগুলো একটি লিস্ট আকারে রেফারেন্সে উল্লেখ করতে।

ছাত্রছাত্রীদের জন্য যে সমস্ত বই থেকে সাহায্য নিয়ে উত্তর তৈরি করেছেন সেই বইগুলো এবং লেখকের নাম লিস্ট আকারে উল্লেখ করে দিন। এর মাধ্যমে আপনার অ্যাসাইনমেন্টের মূল্যয়নে একটি ভিন্ন মাত্রা পাবে এবং বলাই যায় সেটির গ্রহণযোগ্যতা অবশ্যই ভালো হবে। 

টিপস্

  1. সহজ ভাষায় লিখবেন, চেষ্টা করবেন নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লেখার। কোনকিছু কপি করে না লিখে বিষয়টি ভালমতো পড়ে নিজের ভাষায় লিখুন।
  2. হাতে লিখলে লেখার মধ্যে কাটাকাটি করবেন না। কম্পিউটার কম্পোজ করলে অবশ্যই বানান এবং গ্রামার ঠিক আছে কি না চেক করে নিবেন।
  3. কাভার পেজ সিম্পল রাখুন। ছাত্রছাত্রীদের জন্য কাভার পেজে নিজের নাম, শ্রেণী, রোল নম্বর, ডিপার্টমেন্ট, বিষয় এবং কোন শিক্ষকের অথীনে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করছেন তা উল্লেখ করুন। 
  4. টেবিল অফ কনেটেন্ট বা সূচীপত্রে পৃষ্ঠা নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করুন। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অ্যাসাইনমেন্ট লেখা শেষ হলে পৃষ্টা নম্বর মিলিয়ে তারপর সূচীপত্রে উল্লেখ করুন। এক কথায় সবার শেষে এই অংশটি পূরণ করুন। 
  5. মূল অংশটি পয়েন্টসহ বিস্তারিত আকারে এবং সহজ ভাষায় লিখুন। যত বেশি তথ্য সংযুক্ত করা যায় ততই ভালো। 
  6. ভূমিকা অংশে যে বিষয়ের উপরে অ্যাসাইনমেন্ট লিখছেন তার প্রয়োজনীতা উল্লেখ করুন এবং এই সম্পর্কিত সমস্যা এবং তার সমাধান সম্পর্কে ধারণা দিন।
  7. উপসংহার অংশে আপনি কি কি বিষয়ে আলোচনা করেছেন সেই বিষয়ে খুব সংক্ষেপে লিখুন এবং এর মাধ্যমে কি ধরণের সুবিধা হতে পারে সেই বিষয়ে সংক্ষেপে লিখুন। 
  8. স্কুল কলেজের অ্যাসাইনমেন্ট অবশ্যই হাতে লিখতে হবে। মনে রাখবেন সুন্দর হতের লেখা এবং একটি ভাল উপস্থাপনা আপনাকে আপনার অ্যাসাইনমেন্টের জন্য সর্বোচ্চ নাম্বার এনে দিতে পারে। 

শেষ কথা

অ্যাসাইনমেন্ট লিখতে গিয়ে অনেকেই বেশ অস্বস্তিবোধ করে থাকেন, তাছাড়া অ্যাসাইনমেন্ট লেখার নিয়মাবলী সম্পর্কেও অনেক দুশ্চিন্তা থাকে। আমরা এখানে একটি অ্যাসাইনমেন্ট লেখার পূর্ণাঙ্গ ফরমেট দিয়ে দিয়েছি। আপনি আপনার কর্মস্থান, স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় যে কোন জায়গাতে এই নিয়মটি অনুসরণ করতে পারেন। আশা করি এই সম্পূর্ণ লেখাটি আপনাকে যথেষ্ট সহায়তা করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top
Scroll to Top