গাজর চাষ পদ্ধতি

এই ভাবেই গাজর চাষ পদ্ধতি তে হয়ে উঠুন লাখোপতি!

গাজর চাষ পদ্ধতি : গাজর এক প্রকার মূল জাতীয় সবজি। গাজর গাছের আদি নিবাস ছিলো দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া এবং ইউরোপ। পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক গাজরই চীন দেশে উৎপাদিত হয়। গাজর আমরা নানা কাজেই বা বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করে থাকি। বিশেষ করে সালাদে এর ব্যবহার ব্যাপক। শীতকালীন সবজির  মধ্যে গাজর হলো একটি অন্যতম সবজি।

গাজর চাষ পদ্ধতি

অনেকেই চায় বাসায় গাজর চাষ করার জন্য।  কিন্তু তাদের গাজর চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে ভাল আইডিয়া না থাকায় তারা চাষ করতে পারে না। 

জেনে নিন কিভাবে টবে গাজর চাষ করে হতে পারবেন লাভবান?! 

  • গাজরের জাত –  অবশ্যই গাজর রোপণের আগে জাতটি কেমন তা বিবেচনা করতে হবে। বিদেশ থেকে সাধারণত বিভিন্ন জাতের গাজরের বীজ আমদানি করে চাষ করা হয়। যেমন-রয়েল ক্রস, কোরেল ক্রস, কিনকো সানটিনে রয়েল ও স্কারলেট নান্টেস। এছাড়াও আরো রয়েছে কেশর, কুরোদা-৩৫, নিউ কোয়ারজা, ইয়োলো রকেট ইত্যাদি জাতগুলো কৃষকদের নিকট অত্যন্ত জনপ্রিয়। এসব জাতের মধ্যে পুষা কেশর আমাদের দেশের জলবায়ুতে বীজ উৎপাদনে সক্ষম।
  • খুব সহজেই  টবে গাজর চাষ করা যায়,তাই অনেকেই এই টবে গাজর চাষের প্রতি বেশি আগ্রহী। এমনকি বছরে ২ এর ও বেশি আপনি গাছ রোপন করতে পারবেন এবং সংগ্রহ করতে পারেন।
  • যে কোন ধরনের টবে আপনি গাজর চাষ করতে পারেন তবে মনে রাখতে হবে টবটি যেন গাজর চাষের উপযোগি হয়। অবশ্যই টবটি গভীর হতে হবে। টবে চাষের জন্য জাত বাছাই এর ক্ষেত্রে খাটো এবং মোটা জাতের গাজরের জাত নির্বাচন করতে হবে।

আপনার টবটি হতে হবে কমপক্ষে ১২ ইঞ্চি গভীর।  প্রয়োজন হবে পানি দেওয়ার ব্যাবস্থার। তাই পানির নিষ্কাষন ব্যবস্থা ঠিক রাখার জন্য টবের নিচে ছিদ্র দিতে হবে। গাজরের উপকারিতা; ১৫টি অজানা গুণ জেনে নিন!

এইভাবে গাজর চাষ পদ্ধতির নিয়ম মেনে পেতে পারেন ভালো মানের গাজর ।

আপনার সুবিধামতো মাটিতেই করে নিন গাজর চাষ!

  • চাষ পদ্ধতি – মাটিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আছে এমন বেলে ও দোআঁশ মাটি গাজর চাষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। তাই গাজর চাষ পদ্ধতির ক্ষেত্রে অবশ্যই মাটির দিকটি ও বিবেচনা করতে হবে। 
  • বীজ বপন সময় – সবচেয়ে ভালো সময় হলো আশ্বিন থেকে কার্তিক মাসের মধ্যে। এটিই সবচেয়ে বীজ বপনের উত্তম সময়।
  • বীজ হার – প্রতি হেক্টরে বীজ লাগে ৩-৪ কেজি। সারি-সারির দূরত্বঃ ২০-২৫ সেমি। এবং গাছ-গাছের দূরত্বঃ ১০ সেমি।

জমি তৈরী

১) গাজর চাষের জন্য ভালভাবে চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরী করে নিতে হবে।

২) সারিতে গাজরের বীজ বপন করা ভাল। এতে গাজরের যত্ন নেয়া ও সহজ হয়।

৩) জমির মাটি ঝুরঝুরে করে তৈরী করতে হবে। এতে বীজ রোপণ করতে সুবিধা হয়।

৪) গাজরের বীজ যেহেতু খুব ছোট হয় তাই ছাই বা গুড়া মাটির সাথে মিশিয়ে বপন করা ভাল। এজন্য ভাল বীজের সাথে ভাল শুকনা ছাই বা গুড়া মাটি মিশিয়ে বপন করতে পারেন। 

জেনে নিন গাজর সম্পর্কিত সকল প্রয়োজনীয়তা তথ্য সমূহ! 

গাজরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন। এই বিটা ক্যারোটিন সাহায্য করে  শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলকেই। এটি চোখের স্নায়ুকে করে শক্তিশালী। ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে গাজরের গুরুত্ব রয়েছে অনেক। গাজরের রস দেহের চর্বির মাত্রা কমায়।  রক্তের প্রধান উপাদান আরবিসিকে দীর্ঘজীবী করার জন্য গাজরের গুরুত্ব অপরিসীম। 

শিশুরা  মায়ের দুধের পরিবর্তে কৌটার দুধ খায়, এমন শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য হয় বেশি। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দেওয়ার জন্য অনেকেই গাজরের খিচুড়ি খাওয়ায়। শিশু গাজরের খিচুড়ি না খেলে দিতে পারেন গাজরের হালুয়া। গাজরের হালুয়া শিশুদের বুদ্ধি বিকাশে সাহায্য করে। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top
Scroll to Top