লাউ চাষ এর সঠিক পদ্ধতি জেনে শুরু করুন আজই!

লাউ চাষ পদ্ধতি – বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুসের পছন্দের একটি তরকারি হচ্ছে লাউ দিয়ে রান্না করা তরকারি ৷ সেই সাথে এর মুরুব্বা দেখে জিভে জল আসেনা এমন মানুষ খুবই কম ৷ খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি এর বাণিজ্যিক উৎপাদনে লাভ হয় দারুণ! চলুন তবে, লাউ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নেই!

লাউ চাষ পদ্ধতি


রোপনের সময়: বারোমাসি সবজি না হওয়ায় একে সবসময় চাষ করা বা রোপন করা যায়না ৷ ভাদ্র থেকে আশ্বিন মাস রোপনের জন্য সবচেয়ে ভালো সময় ৷


উপযুক্ত মাটি: চাষের মাটি হিসেবে জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোঁ-আশ বা এটেল দোঁ-আশ মাটি সবচেয়ে উপযুক্ত ৷ অন্যান্য মাটিতে আশানুরুপ ফলাফল হয়না ৷ 


জমি তৈরি ও বীজ বপন পদ্ধতি


জমি তৈরি করার জন্য নির্ধারিত স্থানে মাটি কুপিয়ে তাতে জৈব সার প্রয়োগ করে উল্টিয়ে-পাল্টিয়ে দিতে হবে ৷ এতে জমির মাটি পুষ্টিগুণে ভরপুর হবে ও গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে ৷ লাউ চাষ পদ্ধতিতে বীজ বপনের জন্য সরাসরি বীজ মাটিকে পুতে চারা উৎপন্ন করা যায় বা পলিব্যাগের মাধ্যমে মাটিতে পুতে চারা উৎপন্ন করা যায়। পলিব্যাগে চাষ পদ্ধতিতে বীজ তৈরি ও চারা উৎপাদণ করতে চাইলে ৮×১০ আকৃতির বা এরচেয়ে কিছুটা বড় সাইজের পলিথিন নিয়ে তাতে মাটি ও জৈবসার প্রয়োগ করে সেখানে ২ টি করে বীজ বপন করা যায় ৷

সবচেয়ে ভালো ফলাফল পেতে আগষ্ট থেকে অক্টোবর সময়ের ভেতরে বীজ ফেলতে হবে ৷ 


চারা রোপন পদ্ধতি


চারা রোপন করে লাউ চাষ পদ্ধতিতে রোপন উপযুক্ত চারার বয়স হচ্ছে ১৬-১৭ দিন ৷ চারা রোপনের আগের দিন, বিকেলে পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হবে ৷ পরদিন তৈরিকৃত জমিতে চারা রোপন করে দিতে হবে ৷


জমি ও গাছের পরিচর্চা:


রোপনকৃত বীজ বা চারার জমিতে নিয়মিত সেচের ব্যবস্থা করতে হবে ও প্রচুর পরিমানে সূর্যালোক পাবার সুবিধা করে দিতে হবে ৷ নিয়মিত আগাছা দমন ও বাউনি বা মাচা বানিয়ে দিতে হবে ৷ মাচা বিহীন লাউ চাষ করলে ফলের একপাশ মাটিতে থাকায় তা পচে নষ্ট হয়ে যায় ৷ তাই অবশ্যই মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ করতে হবে ৷

ক্ষতিকর পোকামাকড়:


লাউয়ের মাছি পোকা : 

এ পোকা লাউয়ের ফলের মধ্যে সর্বপ্রথম ডিম পাড়ে, পরবর্তীতে ডিম থেকে কীড়া বের হয়ে ফলের ভেতরে খেয়ে নষ্ট করে ফেলে ।

>> বাড়ির ছাদে সবজি চাষ পদ্ধতি জেনে নিন!


মাছি পোকা দমন ব্যবস্থা 

মাছি পোকার কীড়া আক্রান্ত ফল খুব দ্রুত পচে যায় এবং গাছ দ্রুত মাটিতে ঝরে পড়ে । মাছি পোকা আক্রান্ত ফল কিন্তু কোনোক্রমেই জমির আশেপাশে ফেলে রাখা যাবে না । কেননা এর মাধ্যমেই পুনরায় মাছি পোকা বংশবিস্তার করবে ও গাছের ফলে জায়গা করে নিবে ৷ পোকা আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে তাই ধ্বংস করে ফেললে মাছি পোকার বংশবৃদ্ধি অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব ।


ফসল তোলা


পরাগায়নের ১২-১৫ দিন পর লাউ গাছ থেকে তুলে বিক্রির উপযুক্ত হয় ৷ এসময় লাউ-এ প্রচুর শুং থাকে ও নখ দিয়ে চাপ দিলে সহজেই ঢেবে যায় ৷


লাউয়ের পুষ্টিগুণ 


লাউ অত্যন্ত পুষ্টিকর ৷ এতে রয়েছে ১৭ ধরণের এ্যামাইনো এসিড, ভিটামিন সি, জিংক, থায়ামিন, বাইবোফ্লাবিন, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, মাঙ্গালিজ ও ৯৬ শতাংশ পানি! ফ্যাট বা কোলস্টরেল বিহীন হওয়ায় পুরোপুরি স্বাস্থ্যকর ৷


স্বাস্থ্য সচেতন উচ্চ রক্তচাপের রোগী, ডায়াবটিস রোগী, হৃদরোগ আক্রান্ত রোগীদের জন্য ভালো হয় এটি ৷ 


শেষ কথা


লাউ চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে চাষাবাদ করলে কাঙ্খিত ফলাফল লাভ করা যাবে ৷ শখের বসেই হোক বা ব্যবসায়িক কারণে, লাউ চাষ পদ্ধতি অনুসরণেই এর সফলতা নিহিত ৷ দেরি না করে আজই তবে লাউ চাষের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দিন! 

>> চিচিঙ্গা চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top
Scroll to Top