হাঁসের বাচ্চা পালন পদ্ধতি

সহজ ভাবে হাঁসের বাচ্চা পালন পদ্ধতি সমূহ জেনে নিন!

হাঁসের বাচ্চা পালন পদ্ধতি : হাঁসের বাচ্চা পালনের আগে অবশ্যই জানতে হবে কিভাবে সঠিক উপায়ে পালন করলে হাঁস গুলো বেড়ে উঠবে। তাছাড়া ও কিভাবে হাঁস পালন করলে হাঁসগুলো সুস্থ থাকবে সেটাও জানা জরুরি। সঠিকভাবে সবকিছু করতে পারলেই আপনি ভাল লাভবান হবেন। 

তাই সবকিছু করার আগে আপনার অবশ্যই জানা উঠিত সঠিক হাঁসের বাচ্চা পালন পদ্ধতি। 

হাঁসের বাচ্চা পালন পদ্ধতি

কিভাবে হাঁসের বাচ্চা পালন করলে বেড়ে উঠবে খুব দ্রুত?

সাধারণত হাঁসের বাচ্চা পালন মুরগির বাচ্চা পালনের মত হয়ে থাকে। হাঁসের বাচ্চার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা প্রদান করা -১ম সপ্তাহে তাপমাত্রা দিতে হবে ৩২ সে. আর ২য় সপ্তাহে ২৯ সে. ৩য় সপ্তাহে দিতে হবে ২৬ সে. ৪র্থ সপ্তাহে ২৩ সে.ও ৫ম সপ্তাহে ২১ সে. তাপমাত্রা প্রয়োজন হবে।

সঠিক খাদ্য বেছে নিন হাঁসের বাচ্চার জন্য!

শুধু হাঁসের বাচ্চা পালন করলে হবে না। তার পূর্বে জেনে নিতে হবে কি খাবার দিতে হবে বাচ্চাদের। যার কারণে খুব দ্রুতই বেড়ে উঠতে পারবে হাঁসের বাচ্চা গুলো। হাঁসের বাচ্চা পালন পদ্ধতির জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা। হাঁস প্রধানত দুই রকমের খাদ্য খায়। যেমন : প্রাকৃতিক খাদ্য ও সম্পূরক খাদ্য।

  • প্রাকৃতিক খাদ্য : হাঁস প্রাকৃতিক ও সম্পূরক খাদ্যের মাধ্যমে খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে থাকে। জলাশয়ের আগাছা, ক্ষুদেপানা, পোকামাকড়, কচি ঘাস পাতা, ঝিনুক, ছোট মাছ ইত্যাদি খেয়ে অর্ধেক খাদ্যের প্রয়োজন মেটায়। আর এইসব খাদ্য কেই প্রাকৃতিক খাদ্য নামে আখ্যায়িত করা হয়।
  • সম্পূরক খাদ্য : হাঁস সাধারণত ভেজা খাবার পছন্দ করে। এজন্য হাঁসের খাদ্যে সবসময় পানি মিশিয়ে দিতে হয়। সাধারণত ১-৮ সপ্তাহ বয়সের হাঁসকে দিনে ৪-৫ বার খাবার দিতে হয় , ৮ সপ্তাহ বয়স থেকে দিনে ২-৩ বার এবং বাড়ন্ত- হাঁসকে দিনে ২ বার করে খাবার খাওয়াতে হয়। সকালে ও বিকালে হাঁসকে খাবার দিতে হয়। আর রাতের জন্য ঘরে খাবার দিয়ে রাখতে হবে। 

কোন জাতের হাঁসের বাচ্চা পালন করলে লাভবান হওয়া যাবে?

বর্তমানে পৃথিবীতে তিন ধরনের হাঁস পালন করা হয়ে থাকে। আর এইগুলো হলো ১। মাংস উৎপাদনের জাত ২। ডিম উৎপাদনের জাত ৩। মাংস ও ডিম উভয় উৎপাদনের জাত।

জেনে নেওয়া যাক হাঁসের বাচ্চার জাত গুলো সম্পর্কে:

  • মাংস উৎপাদনের জন্য হাঁস পালনঃ মাংসের জন্যে বিখ্যাত হাঁসগুলি আয়লেশবারি, মাসকোভি, পিকিং, রুয়েল ক্যায়ুগা, সুইডেন হাঁস। মাংসের জন্য বিখ্যাত হাঁসগুলির মদ্দার ওজন হয়ে থাকে ৫ কেজি এবং  মাদি হয়  ৪ কেজি।
  •  ডিম উৎপাদনের জন্য হাঁস পালনঃ ডিম উৎপাদনের জাতগুলো হলোঃ জিনডিং জাতের হাঁস ও ইন্ডিয়ান রানার হাঁস। সাধারণত ইন্ডিয়ান রানার হাঁস তিন রকমের হয় – ১.সাদা ২.পাশুটে ও ৩.পিঠে দাগ কাটা থাকে পেনসিলের শিষের মতো।
  •  মাংস ও ডিম উভয় উৎপাদনের জন্য হাঁস পালনঃ খাকি ক্যাম্পবেল হাঁস হলো মাংস ও ডিম উভয় উৎপাদনের জন্য সবথেকে জনপ্রিয়। মিসেস ক্যাম্পলে, এ হাঁসটিকে ইন্ডিয়ান রানার ও রুয়েল ক্যায়ুগা হাঁসের শংকরায়নের মাধ্যেমে জাত সৃষ্টি করেন। সাধারণত এই শংকর জাতের হাঁসগুলো খাকি কালারের অথবা ছাই বাদামি হয়ে থাকে, তাই এই জাতটির নাম দেওয়া হয়েছে খাঁকি ক্যাম্পবেল হাঁস।

কিভাবে হাঁসের বাচ্চার যত্ন নিলে দ্রুত বেড়ে উঠবে?

হাঁসের বাচ্চা পালন পদ্ধতির ক্ষেত্রে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হাঁসের বাচ্চার যত্ন নেওয়া সম্পর্কে ভালো ভাবে ধারণা রাখা৷ কেননা যত্ন নিতে না জানলে হাঁসের বাচ্চা গুলো অল্পতে মারা যাবে। তাই উচিত সঠিক যত্ন কিভাবে নিতে হয় সে বিষয়ে ধারণা রাখা৷  ব্রয়লার মুরগির রোগ ও চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন!

জেনে নিন কিভাবে নিতে হবে যত্ন!

  • যখন হাঁসের বাচ্চার বয়স এক মাস হবে তখন তাদের এমন ধরনের আশ্রয়স্থল এর দরকার হবে যাতে প্রতিটি বাচ্চার জন্য অন্তত 0.05 বর্গমিটার হতে 0.06 বর্গমিটার পরিমান জায়গা থাকে। এক থেকে দুই মাস বয়স পর্যন্ত প্রতিটি হাঁসের জন্য 0.15 বর্গমিটার জায়গা প্রয়োজন হবে। আলো-বাতাস প্রবাহের প্রচুর ব্যবস্থা থাকলে 0.91 বর্গমিটার জায়গা হলেও চলবে।
  • সাধারণত চার থেকে পাঁচ মাস বয়সে এরা যেকোন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অনায়াসে সইতে পারে। তাই দুপুরে হাঁসের বাচ্চা গুলো গাছের ছায়ায় রাখতে হবে। কেননা ওই সময়ে সূর্যের তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না। আর দুপুরের তাপের প্রভাব কমে গেলে এরা আবার খাদ্য সন্ধানে বেরিয়ে পড়তে পারে। আশ্রয়স্থল এর ভিতরে নেওয়ার পূর্বে সামান্য খাদ্য দিলে প্রতিদিন ঘরে ফিরে আসার অভ্যাস গড়ে উঠবে। তাই সন্ধা হওয়ার পূর্বেই হাঁসের বাচ্চা গুলোকে বাসস্থানে ফিরিয়ে আনতে হবে। ড্রাগন ফলের চারা কোথায় পাওয়া যায় জেনে নিন!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top